পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী, বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং গঙ্গাসাগরের প্রসাদ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে এই সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে পিতলের হাঁড়ি, ফুটবল-সহ একাধিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিধায়ক তহবিল এবং পুরনিগমের অনুমোদিত অর্থে এই সামগ্রীগুলি কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলি উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছানোর পরিবর্তে ক্লাবঘরেই জমা করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। কেন এই সামগ্রীগুলি বিতরণ করা হয়নি এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলি মজুত রাখা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সামগ্রী মানুষের কাছে পৌঁছানোর বদলে বিভিন্ন ক্লাব ও রাজনৈতিক ঘাঁটিতে আটকে রাখা হয়েছিল। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব থেকে গঙ্গাসাগরের প্রসাদ উদ্ধারের ঘটনাও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ক্লাব ও রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সংঘ ক্লাব থেকে বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের পর ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, ক্লাবের একটি অংশে বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা, এসি-সহ আধুনিক পরিকাঠামো এবং রাজ্য সরকারের জলের বোতল পাওয়া গিয়েছিল।
সম্প্রতি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির কার্যালয়েও সরকারি প্রকল্পের শাড়ি, শিশুদের পোশাক-সহ একাধিক সামগ্রী মজুত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালিয়ে ওই সামগ্রী উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর চন্দ্রা ঘোষণালের কার্যালয় থেকেও ত্রাণসামগ্রী বাজেয়াপ্ত হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
একাধিক ঘটনায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিরোধীরা শাসকদলকে নিশানা করতে শুরু করেছে। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস ও ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


