রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র পানিহাটি এবার একেবারে অন্য মাত্রা পেয়েছে। এই আসনে শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, জড়িয়ে রয়েছে আন্দোলনের স্মৃতি, আবেগ এবং সম্পর্কের বদলের গল্প। একদিকে বিজেপির প্রার্থী ‘অভয়ার মা’, যিনি আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা চিকিৎসকের ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে মুখ হয়ে উঠেছিলেন প্রতিবাদের। অন্যদিকে সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত, যিনি সেই একই আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন একসময়। আজ তাঁরা একে অপরের প্রতিপক্ষ।
কলতান দাশগুপ্ত তাঁর হলফনামায় যে ছবি তুলে ধরেছেন, তা বেশ সরল জীবনযাপনেরই ইঙ্গিত দেয়। তাঁর নামে মোট আটটি মামলা রয়েছে, সবক’টিই বিচারাধীন। হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাঙ্ক ও বিমায় তাঁর বিনিয়োগ ২ লক্ষ ৮১ হাজার ৫৭৭ টাকা। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোনও গাড়ি বা গয়না নেই। মোট অস্থাবর সম্পত্তি দাঁড়াচ্ছে ২ লক্ষ ৯০ হাজার ৭৭ টাকা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, তাঁর নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই—অর্থাৎ নিজের বাড়ি বা জমি কিছুই নেই।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী শুভেচ্ছা মিত্রের আর্থিক অবস্থা তুলনায় কিছুটা স্বচ্ছল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০৭ টাকা। হাতে নগদ রয়েছে ১০ হাজার টাকা এবং ব্যাঙ্ক ও বিমায় বিনিয়োগ ৩৫ হাজার ৬৭৪ টাকা। প্রায় ১০০ গ্রাম গয়না রয়েছে তাঁর, যার মূল্য প্রায় ১৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৩০ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তি ১৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৮০৪ টাকা। শুভেচ্ছার নামে একটি বাড়িও রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা—এটাই তাঁদের একমাত্র স্থাবর সম্পত্তি।
সবচেয়ে বড় কথা, যাঁর মেয়ের ন্যায়বিচারের দাবিতে একসময় রাস্তায় নেমেছিলেন, আন্দোলন করেছিলেন, এমনকী জেলও খাটতে হয়েছিল—সেই ‘অভয়ার মা’-ই আজ তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়ছেন। এর সঙ্গে তৃণমূলের শক্তিশালী উপস্থিতি মিলিয়ে পানিহাটির লড়াই এখন ত্রিমুখী এবং অত্যন্ত কঠিন।
শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তা নির্ধারণ করবে জনতাই। তবে এটা স্পষ্ট, এবারের পানিহাটি শুধুই একটি কেন্দ্র নয়—এটি আবেগ, রাজনীতি এবং বাস্তবতার সংঘর্ষের এক বড় মঞ্চ।


