বকরি ঈদকে ঘিরে গবাদি পশু জবাই নিয়ে রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকা এবার পৌঁছে গেল আদালতের কড়া নজরে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়ে দিল, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পশুবলির বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশে আটকে রাখা যায় না। ১৯৫০ সালের আইনে এই সংক্রান্ত বিশেষ ছাড়ের উল্লেখ রয়েছে বলেই রাজ্যকে নতুন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য সরকারকে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে আইনের ১২ নম্বর ধারায় যে ছাড়ের কথা বলা হয়েছে, সেটি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার গবাদি পশু জবাই ও বিক্রির উপর একাধিক নিয়ম জারি করে। প্রকাশ্যে বা অনুমতি ছাড়া পশু হত্যা বন্ধে কড়া বিধিনিষেধ আনা হয়। গরু ও মহিষের বাছুর বলি নিয়েও একাধিক শর্ত আরোপ করা হয় সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে। আর সেই নির্দেশিকাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে একের পর এক মামলা দায়ের হয়।
মামলাকারীদের একাংশ আদালতে দাবি করে, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের কিছু ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও এই মুহূর্তে সেই প্রশ্নে কোনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি আদালত। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই ওই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে আপাতত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। আর সেই কারণেই ঈদের আগে এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে চাপ।


