প্রতি বছর বর্ষা এলেই ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি, রাস্তা, চাষের জমি— সবকিছুই বন্যার জলে বিপর্যস্ত হয়। বহুদিন ধরেই এই সমস্যা সমাধানে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবে কাজের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। এবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রকল্প ফের প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এল।
সোমবার নবান্নে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে রাজ্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত কার্যকর করার দিকেই জোর দিয়েছে নতুন সরকার।
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের অর্ধেক বহন করবে কেন্দ্র এবং বাকি অর্ধেক দেবে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দের খসড়া দ্রুত তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে এই প্রকল্প এগোয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছিল। যদিও আগের সরকার একাধিকবার প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু মাটিতে কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল। এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে সেই জট কাটতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ঘাটাল-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা স্থায়ীভাবে বন্যার হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে। পাশাপাশি জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে।


