ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ছে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে। সেই প্রেক্ষাপটে রবিবার দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনও কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধায়করাও ছাড় পাবেন না।
সূত্রের খবর, বৈঠকে পার্টি অফিস দখল, তোলাবাজি, জমি-বাড়ি দখল এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মতো নানা অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শমীক। তিনি বলেন, দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডের উপর নজর রাখা হচ্ছে। কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে তাঁর পদমর্যাদা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
শমীকের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে তথাকথিত ‘তৃণমূলী সংস্কৃতি’র প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, বিজেপির মধ্যে এমন কোনও সংস্কৃতি জায়গা পাবে না। প্রয়োজনে কয়েকজন বিধায়কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে দল পিছপা হবে না বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। তিনিও সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার রাজ্য সভাপতিকে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সতর্ক করতে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষা না করে সংগঠনের প্রত্যেক স্তরকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
এর মধ্যেই দমদম উত্তর সাংগঠনিক জেলায় তিন নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে নিউ বারাকপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তিতু সরকার, সহ-সভাপতি তীর্থ মিত্র এবং উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক নিত্য মিত্রকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী সময়ে ভয় দেখানো, হুমকি, কর্মীদের মারধর এবং একাধিক দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে যে দ্বন্দ্ব চলছিল, ভোটের পর তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সম্প্রতি কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনার পরই দলের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


