বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে এসেও স্বাভাবিক প্রস্তুতির সুযোগ পাচ্ছে না ইরান। ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েও কোনও সুরাহা হল না। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরান ফুটবল দলের জন্য বিশেষ কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। ফলে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলিতেও মেহেদি তারেমিদের বারবার আমেরিকা ও মেক্সিকোর মধ্যে যাতায়াত করতে হবে।
লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ ড্র করার পরই সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে ইরান। ম্যাচের জন্য সীমিত সময়ের ভিসা পেয়েছেন ফুটবলার ও কোচরা। তাই খেলা শেষ হতেই আমেরিকায় থাকার অনুমতি নেই। দলের অস্থায়ী ঘাঁটি করা হয়েছে মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। সেখান থেকেই ম্যাচ খেলতে আমেরিকায় ঢুকছে তারা, আবার খেলা শেষে ফিরে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তাদের দাবি, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একটি দলকে বারবার সীমান্ত পারাপার করতে বাধ্য করা খেলোয়াড়দের জন্য বড় অসুবিধার। তাই ফিফার কাছে বিধিনিষেধ শিথিল করার আবেদনও জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
ইরানের সামনে এখন বেলজিয়াম ও মিশরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলসে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ২৭ মিনিটের মধ্যেই দলকে দেশ ছাড়তে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বকাপ উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের টাস্ক ফোর্সের মুখ্য পরিচালক অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি।
তাঁর কথায়, “পরিস্থিতি জটিল। আপাতত বর্তমান ব্যবস্থাই বজায় থাকবে। ম্যাচের পরই ওদের তিজুয়ানায় ফিরে যেতে হবে। এরপর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।”
জিউলিয়ানি আরও জানান, প্রথমে ইরানের ক্যাম্প অ্যারিজোনায় ছিল। পরে সেটি তিজুয়ানায় সরিয়ে আনা হয়েছে যাতে যাতায়াতের সময় কিছুটা কমে। তাঁর দাবি, এতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় বাঁচবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “খেলোয়াড় ও কোচদের প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, কারণ তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। আমাদের প্রথম দায়িত্ব আমেরিকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা সকলের নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ফিফার হস্তক্ষেপেও পরিস্থিতির বদল না হওয়ায় বিশ্বকাপের মাঝেই ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সংঘাত ফের সামনে চলে এসেছে। ইরানের ফুটবলারদের এখন মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সামলাতে হচ্ছে কঠিন ভ্রমণসূচিও।


