বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে) বিজেপির তিন দশকের অজেয় দুর্গ বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র দখল করে নজির গড়লেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে ১৮,৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে জন সুরাজকে প্রথম বড় রাজনৈতিক সাফল্য এনে দিলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৬৩,২০৩ ভোট। বিজেপির নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪,২৫০ ভোট। আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী পেয়েছেন ১৪,০৮৫ ভোট।
জয়ের পরই প্রশান্ত কিশোরকে শুভেচ্ছা জানান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “বাঁকিপুরের মানুষ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছেন। গণতন্ত্রে মানুষের রায়ই চূড়ান্ত। প্রশান্ত কিশোরজিকে তাঁর জয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয় নীতীন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায়। ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ হয়। ভোটের আগে বিজেপি প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্তও নেয়। মনোনয়ন জমার মাত্র একদিন পর অভিষেক বান্টির পরিবর্তে নীরজ কুমারকে প্রার্থী করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই কৌশল কাজে আসেনি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১৯৯৫ সাল থেকে এই আসন বিজেপির দখলেই ছিল। তখন কেন্দ্রটির নাম ছিল পাটনা পশ্চিম। নীতীন নবীনের বাবা কিশোর প্রসাদ সিনহা দীর্ঘদিন এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে তাঁর মৃত্যুর পর জয়ী হন নীতীন নবীন। তারপর থেকে বাঁকিপুর কার্যত বিজেপির অভেদ্য ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়েও একটি আসনও জিততে পারেনি জন সুরাজ পার্টি। সেই ব্যর্থতার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিজেপির সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটিগুলির একটিতে জয় তুলে নিয়ে প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট বার্তা দিলেন— বিহারের রাজনীতিতে জন সুরাজকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ৩১ রাউন্ডের গণনা শেষে তাঁর জয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।


