মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন দক্ষিণী তারকা সামান্থা রুথ প্রভু। স্বামী রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় থাকা অভিনেত্রী এবার নিজের সাধের অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি ভাগ করে নিলেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তবে শুধু সাজগোজ কিংবা পারিবারিক মুহূর্ত নয়, এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে থাকা এক বিশেষ শ্রীবিদ্যা রীতির কথাও বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন সামান্থা।
ছবিগুলিতে হবু মায়ের মুখে মাতৃত্বের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। ঐতিহ্যবাহী সাজে নজর কেড়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্বামী রাজ নিদিমোরু এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও দেখা গিয়েছে সামান্থাকে। কিন্তু অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘কালা আবরণ’ বা ‘শ্রী কাল্পম’ নামে পরিচিত বিশেষ আচার।
নিজের পোস্টে সামান্থা জানিয়েছেন, ভারতীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন রীতিনীতির প্রতি তাঁর বরাবরই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। প্রতিটি আচারের অর্থ আগে থেকে জানা না থাকলেও মন্ত্রোচ্চারণ, তার ধ্বনি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা প্রাচীন রীতির মধ্যে যে গভীর তাৎপর্য রয়েছে, তা তিনি বিশ্বাস করেন।
সামান্থার কথায়, এই বিশেষ শ্রীবিদ্যা রীতিতে দেবীর ৯৪টি কলাকে হবু মায়ের সাতটি চক্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার ধারণা রয়েছে। পবিত্র জল এবং মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সেই শক্তিকেন্দ্রগুলিকে শুদ্ধ ও শক্তিশালী করার আচার পালন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানের যে বিষয়টি তাঁকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছে, সেটিও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, এখানে একজন হবু মাকে শুধুমাত্র সন্তানসম্ভবা নারী হিসেবে দেখা হয় না, তাঁকে স্বয়ং দেবীর রূপে সম্মান করা হয়। তাঁর শরীরের মধ্যে নতুন প্রাণের সৃষ্টি হচ্ছে—তাই মা এবং তাঁর গর্ভস্থ সন্তান, দু’জনের জন্যই এই আচারকে আশীর্বাদ ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
আচার শেষে হবু মাকে বসানো হয় পবিত্র শ্রীচক্র যন্ত্রের কেন্দ্রে। নয়টি আবরণ নিয়ে তৈরি এই শ্রীচক্রকে আধ্যাত্মিক যাত্রার বিভিন্ন স্তরের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। একেবারে কেন্দ্রে থাকা ‘বিন্দু’ সৃষ্টির উৎস এবং ললিতা ত্রিপুরাসুন্দরীর উপস্থিতির প্রতীক।
অনুষ্ঠানের সময় পাঠ করা হয় দেবী খড়্গমালা। নয়টি আবরণের সঙ্গে যুক্ত দেবী ও ঐশ্বরিক শক্তির নাম মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। সামান্থার বিশ্বাস, এই মন্ত্র এবং আচার গর্ভস্থ শিশুর উপর জন্মের আগেই এক ধরনের আধ্যাত্মিক সংস্কার বা ‘সংস্কার’-এর ছাপ তৈরি করে।
সামান্থা জানিয়েছেন, এই বিশেষ রীতি সম্পর্কে খুব বেশি না জেনেই তিনি অনুষ্ঠানে বসেছিলেন। কিন্তু পুরো আচার শেষ হওয়ার পর তাঁর অনুভূতি ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। তাঁর কথায়, তিনি নিজেকে গভীরভাবে আশীর্বাদধন্য এবং সুরক্ষিত বলে অনুভব করেছেন।
মাতৃত্ব নিয়ে সামান্থা যে বরাবরই উচ্ছ্বসিত ছিলেন, তার ইঙ্গিতও মিলেছে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। সেখানে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, মা হওয়ার ইচ্ছা তাঁর বহুদিনের। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তিনি।
সামান্থা ও রাজ নিদিমোরুর বিয়ের পর থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর কোয়েম্বাটোরে তাঁদের বিয়ে হয়। এর আগে নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সামান্থা। ২০২১ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
এখন অবশ্য অতীত নয়, সামান্থার জীবনের সামনে শুধুই নতুন শুরু। মাতৃত্বের এই বিশেষ সময়টুকু নিজের মতো করে উদযাপন করছেন অভিনেত্রী। আর তাঁর সাধের অনুষ্ঠানের এই ছবি ও শ্রীবিদ্যার বিশেষ আচার ঘিরে ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।


