পানমশলার বিজ্ঞাপন ঘিরে শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফকে শো-কজ নোটিস পাঠানো নিয়ে মুখ খুললেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর কমিশনার তুকারাম মুন্ধে। তাঁর সাফ কথা, কোনও পণ্যের প্রচারে মুখ হয়ে দাঁড়ালে সেই বিজ্ঞাপনের দায় থেকে সেলিব্রিটিরাও সম্পূর্ণ মুক্ত নন।
তুকারাম মুন্ধে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। ২০১৮ সালের Food Safety and Standards (Advertising and Claims) Regulations-এর নিয়ম মেনেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, বিজ্ঞাপনে কোনও পণ্য বা ব্র্যান্ডকে এমনভাবে তুলে ধরা যাবে না, যা বিভ্রান্তিকর বা নিষিদ্ধ পণ্যের পরোক্ষ প্রচার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
Vimal Elaichi-র বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান, অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফকে দেখা যায়। FDA-র অভিযোগ, এই ধরনের বিজ্ঞাপন কার্যত নিষিদ্ধ পানমশলা ও তামাকজাত পণ্যের ‘সারোগেট’ বা পরোক্ষ প্রচারে পরিণত হতে পারে।
মুন্ধে বলেন, শুধু সেলিব্রিটিদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নির্মাতা ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ চলছে। তাঁর বক্তব্য, “কাউকে টার্গেট করা হচ্ছে না।” বরং নিষিদ্ধ পণ্যের প্রচারে যুক্ত প্রত্যেক পক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করাই FDA-র উদ্দেশ্য।
নোটিসে তিন অভিনেতাকে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনটি প্রচার বন্ধ করা, নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রচারমূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তাঁদের কাছে endorsement agreement, campaign brief, পণ্যের তথ্য, পারিশ্রমিক সংক্রান্ত নথি এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও ব্র্যান্ড মালিকের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে বা জবাব সন্তোষজনক না হলে আরও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে FDA।
এর আগেও পানমশলা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্কে নাম জড়িয়েছে একাধিক বলিউড তারকার। অক্ষয় কুমার ও অমিতাভ বচ্চন এমন বিজ্ঞাপন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। অন্যদিকে শাহরুখ খান অতীতে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোনও পণ্য সত্যিই ক্ষতিকর হলে সেটি বন্ধ না করে কেন শুধু তারকাদের বিজ্ঞাপন করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে।


