৪০ বছর বয়সে এসে ইতিহাস গড়লেন ভারতের প্যারা-অ্যাথলিট শর্মিলা ধনকর। ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের শটপুট F57 ইভেন্টে সোনা জিতে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন তিনি। ৯.৮১ মিটার দূরে বল ছুড়ে শীর্ষস্থান দখল করেন শর্মিলা। রুপো জেতেন ঘানার জিনাবু ইসা (৮.৬৫ মিটার), ব্রোঞ্জ নাইজেরিয়ার ইউচারিয়া ইইয়াজি (৮.১৯ মিটার)। ভারতের আর এক প্রতিযোগী শিলপা শেষ করেন চতুর্থ স্থানে।
তবে এই সোনা শুধু একটি পদক নয়, শর্মিলার কাছে এটি দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়, এমনকি ঘরোয়া হিংসার মতো পরিস্থিতি পেরিয়েও তিনি থামেননি। প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে।
কমনওয়েলথে সোনা জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শর্মিলা। ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর বার্তা, “এই সোনা শুধু ট্রেলার। আসল সিনেমা এখনও বাকি।” পরের লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। এরপর সরাসরি অলিম্পিকের প্রস্তুতি—সেখানেও সোনার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
এই সাফল্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রথমে নিজেই বুঝতে পারেননি শর্মিলা। পরে জানতে পারেন, কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম প্যারা-অ্যাথলিট হিসেবে সোনা জিতেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই আবেগে ভেসেছেন। তাঁর কথায়, দেশের হয়ে এমন ইতিহাস তৈরি করতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি।
সাফল্যের নেপথ্যে মা এবং ভারত সরকারের সহযোগিতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন শর্মিলা। তাঁর লড়াইয়ে পরিবারের সমর্থন যেমন ছিল, তেমনই সরকারি সহায়তাও তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
দেশে ফিরে আরও একবার মন জিতে নিয়েছেন এই চ্যাম্পিয়ন। কাউকে কিছু না জানিয়েই স্থানীয় শিশুদের কাছে হাজির হন তিনি। সঙ্গে ছিল নিজের জেতা পদক। হঠাৎ তাঁকে সামনে দেখে খুদেদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শর্মিলার কথায়, কাউকে না জানিয়েই গিয়ে তাঁদের চমকে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
জীবনে একের পর এক ‘প্রথম’ তৈরি করেছেন শর্মিলা। হরিয়ানার প্রথম মহিলা কন্ডাক্টর হওয়ার নজিরও রয়েছে তাঁর। এবার সেই তালিকায় যোগ হল আরও বড় অধ্যায়—কমনওয়েলথের মঞ্চে ভারতের প্রথম প্যারা-অ্যাথলিট হিসেবে সোনা।
তবে এখানেই থামতে নারাজ ৪০-এর শর্মিলা। কমনওয়েলথের সোনা তাঁর কাছে শেষ নয়, বরং নতুন স্বপ্নের শুরু। সামনে এশিয়ান গেমস, তারপর অলিম্পিক। ট্রেলার যখন এমন জমকালো, আসল সিনেমায় কী অপেক্ষা করছে—সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।


