১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি! জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বড় প্রশ্ন

Spread the love

১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি! জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বড় প্রশ্ন

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে SIR—দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে যখন একের পর এক বিতর্ক, তখন নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্যের বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। সেই আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়া, Form 6-এর পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ এবং SIR সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত।

রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকটি ক্ষেত্রে দুই কমিশনারের বক্তব্য ছিল, তাঁদের জানানো বা সম্মতি নেওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত কিংবা নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। এমনকী একটি দিনেই একাধিক আপত্তি নথিভুক্ত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার Form 6-এ SIR সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য যোগ করা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন কমিশনাররা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে এমন পরিবর্তন করতে হলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা দরকার।

ভোটার ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। রাজ্যস্তরের আধিকারিকদের সফটওয়্যার ও ভোটার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অ্যাক্সেস রয়েছে কি না, তা নিয়েও আপত্তি ওঠে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সেই সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সময়েই সামনে এসেছে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য। প্রতিবেদনের দাবি, প্রায় চার মাস পর গত ৯ সেপ্টেম্বর তিন নির্বাচন কমিশনার—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী—পূর্ণ কমিশনের বৈঠকে বসেন। ফলে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তদন্তের পর নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্তই পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। অভ্যন্তরীণ নোটে কোনও কমিশনারের আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ থাকলেও সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয় বলেই কমিশনের বক্তব্য।

অর্থাৎ, একদিকে কমিশনের দুই সদস্যের একাধিক লিখিত আপত্তির তথ্য সামনে এসেছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। SIR, ভোটার তালিকা এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজের ধরন নিয়ে এই নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্ক যে আরও জোরালো হল, তা বলাই যায়।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *