২৬-এর ভোটের আগে শেষ ২১ জুলাই, তৃণমূলের মেগা মহাসমাবেশ ঘিরে চরমে প্রস্তুতি

Spread the love

২০২৬-র বিধানসভা ভোটের আগে এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ শহিদ দিবস সভা। তাই অন্যবারের তুলনায় এবার ২১ জুলাই-এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের কাছে। ধর্মতলায় মেগা মহাসমাবেশে নজির গড়তেই কোমর বেঁধে নেমেছে দল। প্রতিটি জেলা থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে কলকাতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ট্রেন বুকিং, বাস ভাড়া ও রাত্রিবাসের বন্দোবস্ত। শুধু কর্মীদের ঢল নয়, রাজনৈতিক বার্তা দিতেও তৈরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, ২০২৫ সালের এই সভা শুধু শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং আগামী নির্বাচনের রণনীতি ঘোষণার মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বিজেপিকে চেপে ধরতে পারেন একাধিক ইস্যুতে—সন্দেশখালির ঘটনা, মণিপুরের অস্থিরতা, কেন্দ্রের অর্থ বঞ্চনা, রাজ্যপালকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত, ইডি-সিবিআই-এর ‘রাজনৈতিক অপব্যবহার’, সহ একাধিক জ্বলন্ত ইস্যু উঠে আসতে চলেছে তাঁর বক্তব্যে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যেই দলীয় ইউনিটগুলিকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ২১ জুলাইয়ের সভা যেন হয়ে ওঠে বিজেপি বিরোধী শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম মঞ্চ। যুব তৃণমূল, মহিলা তৃণমূল, সংখ্যালঘু সেল সহ বিভিন্ন শাখাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ দায়িত্ব। প্রতিটি জেলার নেতৃত্বকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় কর্মী নিয়ে উপস্থিত থাকতে হবে কলকাতায়। এমনকি বিভিন্ন মণ্ডল স্তরে প্রস্তুতি বৈঠকও শুরু হয়েছে জোরকদমে।

বিশেষ নজর থাকছে যুব তৃণমূলের কার্যকলাপে। সভার দিন সকালে শহিদ বেদিতে মাল্যদান থেকে শুরু করে সভাস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা— সব দায়িত্ব তাদের কাঁধে। এছাড়া কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও বড় পরিসরে নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শহরের রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণে থাকছে বিশেষ প্ল্যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২১ জুলাই সভা শুধু আবেগ নয়, একরকম শক্তিপরীক্ষাও। যেখানে দেখা যাবে তৃণমূল এখনও কতটা সংগঠিত রয়েছে, কর্মীভিত্তি কতটা অটুট, এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী দিনে কোন পথে বিজেপির বিরুদ্ধে মোর্চা গড়তে চাইছেন।

এই সভা থেকেই আসন্ন লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিতে পারেন দলনেত্রী। বিশেষ করে যুব সমাজ, মহিলাদের অংশগ্রহণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বার্তা—এই তিন স্তম্ভে দাঁড়িয়ে তৃণমূল তার আগামী প্রচারের কাঠামো গড়তে চাইছে।

সব মিলিয়ে, এবারের ২১ জুলাই শুধুই স্মরণসভা নয়—এ যেন ২০২৬-এর ভোট যুদ্ধের আগে তৃণমূলের মহা রণডংকা!


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *