বীরভূমের রামপুরহাটে মানবিকতার বার্তা নিয়ে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রণসংকল্প সভা শেষ করে তিনি পৌঁছন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই প্রসূতি বিভাগে ভর্তি বর্ধমানের সোনলি বিবির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সোনালি ও তাঁর মায়ের অনুরোধে সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের নামকরণও করেন অভিষেক—নাম রাখেন ‘আপন’।
সোমবার রামপুরহাট মেডিক্যালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সোনালি বিবি। আগেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়েছিলেন অভিষেক। যদিও হেলিকপ্টার সংক্রান্ত সমস্যায় বীরভূমে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয় তাঁর। সভা শেষ করেই হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অভিষেক জানান, মা ও সন্তান দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। তবে প্রোটোকল মেনে সদ্যোজাতের খুব কাছে যাননি তিনি। সভা থেকে আসার পর সংক্রমণের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তৃণমূল সাংসদ। সেই সময়েই সোনালি ও তাঁর মা শিশুর নাম রাখার অনুরোধ করেন। অভিষেক বলেন, “যে ভাবে ওঁদের উপর অত্যাচার হয়েছে, বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তা অকল্পনীয়। এরা আমাদেরই মানুষ, আমাদের আপন—তাই নাম রাখলাম আপন।”
একই সঙ্গে সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবারের উপর হওয়া নির্যাতনের অভিযোগে কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র বাংলা বলার ‘অপরাধে’ সোনালিকে সন্তান-সহ বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছিল। পরে হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
অভিষেকের কথায়, “শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে। আদালতের কড়া নির্দেশের পর কেন্দ্র বাধ্য হয়েছে তাঁদের ফিরিয়ে আনতে। এই চোখের জলের দাম বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে হবে।” রাজনৈতিক তরজার পাশাপাশি এই ঘটনায় মানবিকতার প্রশ্নও তুলে ধরলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।


