দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জনগণনার তথ্য সংগ্রহ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন কর্মীরা। তবে এবারের আদমশুমারিতে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নজরে এসেছে। ভিখারিদের জন্য আর আলাদা কোনও ক্যাটেগরি থাকছে না।
২০১১ সাল পর্যন্ত জনগণনার প্রশ্নপত্রে ‘Beggers and Vagrants’ নামে পৃথক একটি শ্রেণি ছিল। এই শ্রেণিতে সাধারণত এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হত, যাঁরা কোনও নির্দিষ্ট পেশার সঙ্গে যুক্ত নন এবং নিয়মিত আর্থিক লেনদেনের অংশও নন। কিন্তু এবার সেই ক্যাটেগরি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবর্তে ভিখারিরা ‘Others’ শ্রেণির মধ্যে চলে যাবেন। এই বিভাগে পড়ুয়া, পরিবারের দেখভাল করেন এমন ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত-সহ বিভিন্ন ধরনের মানুষকে রাখা হবে। ফলে জনগণনার পরিসংখ্যান থেকে দেশে ঠিক কতজন মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত, তা আলাদা করে জানা সম্ভব হবে না।
কেন এই পরিবর্তন? সূত্রের দাবি, ২০১১ সালের জনগণনায় মাত্র প্রায় ৩.৮ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভিখারি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হয়। সামাজিক কারণে অনেকেই নিজেদের ভিখারি পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার তাঁদের আলাদা শ্রেণিতে না রেখে ‘Others’-এর মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে এবারের জনগণনায় মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নাগরিকদের। ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত কি না—এমন একাধিক তথ্যের পাশাপাশি কোভিড টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট, বাইক ও সাইকেল ব্যবহারের মতো বিষয়ও জানতে চাওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও বাড়িতে পানীয় জল, জ্বালানি, খাদ্যশস্য, শৌচাগার, স্নানাগার, নিকাশি ব্যবস্থা, ঘরের মেঝের ধরন, বাড়ির নম্বর এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, লিঙ্গ এবং বৈবাহিক অবস্থার মতো তথ্যও থাকছে প্রশ্নপত্রে। আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল নম্বর নিয়েও তথ্য চাওয়া হচ্ছে।


