পরন্দুরে নয়, চেন্নাইয়ের কাছে এবার অন্য কোনও জায়গায় তৈরি হবে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পরিবেশ, কৃষিজমি এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা নিয়ে লাগাতার আপত্তির পর পরন্দুর প্রকল্প থেকে সরে এসে নতুন জায়গার খোঁজ শুরু করেছে তামিলনাড়ু সরকার। ইন্ডাস্ট্রিজ পলিসি নোটে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
চেন্নাইয়ের যাত্রী ও কার্গো পরিষেবার চাপ সামলাতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছিল। বিজয় সরকারের বক্তব্য, বিমানবন্দর প্রয়োজন হলেও তার জন্য স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা বা কৃষিজমির বড় ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না। তাই বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে এবার বিকল্প জায়গা চিহ্নিত করা হবে।
নতুন জায়গা বাছাইয়ের পর সেটি বিমানবন্দর তৈরির উপযুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখবে এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা AAI। তাদের মূল্যায়নের পরই চূড়ান্ত জায়গা বেছে নেবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, এখনই নতুন বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট জায়গার নাম ঘোষণা করা হয়নি।
শুধু নতুন বিমানবন্দর নয়, বর্তমান চেন্নাই বিমানবন্দরকেও বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। মীনামবাক্কমে বর্তমান বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম দিকে নতুন প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং সিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা করেছে AAI। এর ফলে বাড়তে থাকা যাত্রী ও কার্গো পরিষেবা আরও দ্রুত পরিচালনা করা সম্ভব হবে। নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে জাতীয় সড়কের সংযোগ তৈরির জন্য রাজ্যের কাছে অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।
পরন্দুর প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত বিধানসভায় ১১০ নম্বর বিধির অধীনে ঘোষণা করেছিলেন বিজয়। পরন্দুর ও আশপাশের ১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, চেন্নাইয়ের উন্নয়ন এবং দ্বিতীয় বিমানবন্দর জরুরি হলেও সেই উন্নয়নের মূল্য যেন কৃষক ও স্থানীয় মানুষকে দিতে না হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলেই পরন্দুরের প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের। প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। বিরোধীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। এখন নজর, চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য শেষ পর্যন্ত কোন জায়গাকে বেছে নেয় বিজয় সরকার।


