সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র অরণ্যের দিনরাত্রি ৫৫ বছর পর প্রথমবার প্রদর্শিত হল আন্তর্জাতিক কান চলচ্চিত্র উৎসবে। সোমবার (২০ মে) রাতে, ফ্রান্সের কান শহরের জমজমাট ফেস্টিভ্যালে লাল গালিচায় হেঁটে এলেন ছবির দুই প্রধান অভিনেত্রী—শর্মিলা ঠাকুর ও সিমি গারেওয়াল। সবুজ রেশমি শাড়িতে শর্মিলা এবং সাদা পোশাকে সিমি যেন ফিরিয়ে আনলেন সেই চলচ্চিত্রের স্মৃতি। ছবির এই পুনর্জন্ম নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে সত্যজিৎ রায়ের কাজকে আরও একবার পৌঁছে দেওয়ার সেতু হয়ে উঠল।

১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অরণ্যের দিনরাত্রি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। যদিও কাহিনিতে নিজস্ব পরিবর্তন আনেন সত্যজিৎ। নাগরিক জীবনের হতাশা, বিচ্ছিন্নতা এবং আত্মঅন্বেষণের গল্প নিয়ে ছবির মূল চরিত্র চার যুবক—সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ ও শমিত ভঞ্জ। তাঁদের বিপরীতে অভিনয় করেন শর্মিলা ঠাকুর, কাবেরী বসু এবং সিমি গারেওয়াল।
ছবিটি ২০তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গোল্ডেন বিয়ার’ পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কানে এই প্রথমবার ছবিটির প্রদর্শন নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানে ছবিটি উপস্থাপন করেন আমেরিকান পরিচালক ওয়েস অ্যান্ডারসন, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই সত্যজিতের একনিষ্ঠ অনুরাগী। তাঁর বহু ছবিতেই সত্যজিতের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে, বিশেষ করে The Darjeeling Limited-এ।
আকর্ষণীয় তথ্য হল, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’র শুটিং শুরু হয়েছিল ১৯৬৯ সালে, আর ঠিক সেই বছরেই জন্ম নেন ওয়েস অ্যান্ডারসন—১ মে, যা সত্যজিতের জন্মদিনের (২ মে) ঠিক আগের দিন।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্যারিস ও নিউ ইয়র্কের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে এবং বিদেশি দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর বলেন, “এই ছবি দেউলিয়া শহুরে শ্রেণির বিষণ্ণতাকে চিহ্নিত করে, যা পশ্চিমি দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।”


