IIT দিল্লির সমাবর্তন ঘিরে ধর্মনিরপেক্ষতার বিতর্কে এবার উঠল নতুন প্রশ্ন—আদৌ কি ‘গায়ত্রী মন্ত্র’ পাঠ করা হয়েছিল?
৮ অগস্ট IIT দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তনে একটি সংস্কৃত মন্ত্রপাঠকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানান কংগ্রেস মুখপাত্র শামা মহম্মদ। তাঁর প্রশ্ন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমাবর্তনে কেন ধর্মীয় মন্ত্র বাজানো হবে? তাঁর দাবি, শিক্ষাঙ্গন সব ধর্মের স্লোগান ও ধর্মীয় মন্ত্র থেকে মুক্ত থাকা উচিত।
কিন্তু শামার বক্তব্যের মূল দাবিটিই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন IIT কানপুরের প্রাক্তনী জ্ঞান সি মেহতা। ১৯৬৮ সালে ফিজিক্সে গোল্ড মেডেল পাওয়া এই IIT প্রাক্তনীর দাবি, অনুষ্ঠানে যে পাঠ করা হয়েছিল, সেটি গায়ত্রী মন্ত্র নয়।
মেহতার বক্তব্য, ‘‘আপনার পোস্টের মূল ভিত্তিটাই তথ্যগত ভাবে ভুল। যা পাঠ করা হচ্ছে, সেটা গায়ত্রী মন্ত্র নয়।’’ তাঁর মতে, ধর্মীয় মন্ত্র নিয়ে বিতর্কের আগে ঠিক কী পাঠ করা হয়েছিল, সেটাই নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
শামা অবশ্য জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত ভাবে গায়ত্রী মন্ত্র শুনতে তাঁর আপত্তি নেই। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, একটি অ্যাকাডেমিক অনুষ্ঠানে এর প্রয়োজন কী?
IIT দিল্লির ওই সমাবর্তনে ৩ হাজারের বেশি পড়ুয়া এবং ৫৮৭ জন পিএইচডি গবেষক অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার কথাই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়।
এর মধ্যেই মন্ত্রপাঠ নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তবে বিতর্কের আসল জায়গা এখন আরও নির্দিষ্ট—IIT দিল্লির মঞ্চে ঠিক কী পাঠ করা হয়েছিল?
কারণ, সেটি যদি গায়ত্রী মন্ত্র না হয়, তাহলে শামা মহম্মদের আপত্তির ভিত্তিটিই বদলে যায়। আর যদি হয়, তাহলে সামনে আসবে অন্য প্রশ্ন—সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় মন্ত্রপাঠের জায়গা কতটা?
অর্থাৎ IIT দিল্লির এই বিতর্কে এখন শুধু ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন নয়, ‘মন্ত্রটি আসলে কী ছিল’—এই তথ্যগত প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


