ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্যে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার নামে সমাজের বিশিষ্ট মানুষদেরও হয়রানি করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আউট্রাম ঘাটে গঙ্গাসাগর মেলার ক্যাম্প উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী ও টলিউড অভিনেতা দেবকে এসআইআরে শুনানির নোটিস পাঠানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর প্রশ্ন, সমাজে যাঁদের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত, তাঁদের কেন এভাবে বারবার নোটিস পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অমর্ত্য সেনের বয়স নব্বইয়ের বেশি। তাঁর মা–বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম—এই যুক্তিতে সন্দেহ দেখিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মমতার বক্তব্য, আগেকার দিনে কম বয়সেই বিয়ে হতো এবং বাড়িতেই সন্তান জন্ম ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। সেই সময়ের সামাজিক বাস্তবতা না বুঝে আজকের মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু অমর্ত্য সেন নন, প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামী এবং জনপ্রিয় অভিনেতা দেবকেও শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর মতে, এভাবে সমাজের বিশিষ্ট মানুষদের অযথা হেনস্তা করা হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিয়ম মেনেই এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। কমিশন সূত্রে খবর, বোলপুরে অমর্ত্য সেনের বাড়ি ‘প্রতীচী’-তে গিয়ে বিএলও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেছেন এবং তাঁর তুতো ভাই শান্তভানু সেন কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। কবি জয় গোস্বামীর ক্ষেত্রে নথি অসম্পূর্ণ থাকায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে কমিশনের দাবি। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ায় শুনানিতে হাজির হওয়া সম্ভব নয় বলে তাঁর স্ত্রী কাবেরীদেবী জানিয়েছেন।
ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


