আমেরিকার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই দু’দিনের সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টোকিওয় ভারত-জাপান যৌথ আর্থিক ফোরামে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জাপানি ভাষায় অভিবাদন জানান— “নমস্কার, কনিচিওয়া জাপান।”
মোদি বলেন, “আজ বিশ্ব শুধু ভারতের দিকে তাকাচ্ছে না, ভারতের কাছ থেকে প্রত্যাশাও করছে। উন্নয়নের এই অভিযাত্রায় জাপান সব সময়ই ভারতের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। মেট্রো রেল থেকে অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর থেকে স্টার্টআপ— ইতিমধ্যেই জাপানি সংস্থাগুলি ভারতে ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে।”
আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “ভারতে যে মূলধন আসে, তা শুধু বাড়েই না, বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং অপরিসীম সম্ভাবনা আজ ভারতের শক্তি। দেশ এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধিষ্ণু প্রধান অর্থনীতি। খুব শিগগিরই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির আসন দখল করবে।”
তিনি জানান, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের পর এবার পারমাণবিক ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের পথও খুলে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রদূত সিবি জর্জ জানিয়েছেন, শুধু দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, মোদি-কিশিদা আলোচনায় কোয়াড ইস্যুও গুরুত্ব পাবে। তাঁর কথায়, “প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও কোয়াডের ভূমিকাও আলোচনায় আসবে।”
সফরের প্রথম দিনেই মোদি জাপানি শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, জেন বৌদ্ধমন্দিরে যাবেন এবং ভারত-জাপান বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন। সফর শেষে তিনি চিনে যাবেন, যেখানে এসসিও সামিটের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন।


