বঙ্গে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংঘম’ নামে পরিচিত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। যোগীরাজ্যের এই তথাকথিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর কড়া ও ‘দাবাং’ ধাঁচের পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সোমবার ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের পরিবারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় গিয়ে তিনি সরাসরি পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, কেউ ঝামেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরে কান্নাকাটি করেও কোনও লাভ হবে না।

এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর আরেকটি ভিডিও সামনে এনে কটাক্ষ করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেই ভিডিওতে আলো-আঁধারিতে এক নারীর সঙ্গে নাচগানে মেতে থাকতে দেখা যাচ্ছে ওই পুলিশ আধিকারিককে। ভিডিওটি পোস্ট করে মহুয়া মৈত্র কটাক্ষের সুরে তাঁকে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া’ বলে উল্লেখ করেন এবং লেখেন, তিনি যেন “ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল” থাকেন এবং মনে রাখেন—বাংলায় সবসময় তৃণমূল।
আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করে মহুয়া মৈত্র মন্তব্য করেন, নাচের চেয়ে নিজের পেশা অর্থাৎ পুলিশি কাজে তিনি বেশি দক্ষ হবেন বলেই আশা করা যায়।

এদিকে এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, যে ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে তা উত্তরপ্রদেশের জন্য লজ্জাজনক এবং মহিলাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের একটি উদাহরণ।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচন পর্বের মাঝেই এক পুলিশ আধিকারিককে কেন্দ্র করে এমন ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


