ভূতচতুর্দশী হল কালীপূজার আগের দিন, অর্থাৎ অমাবস্যার একদিন আগে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি। এটি বাংলার এক প্রাচীন ধর্মীয় ও লোকবিশ্বাসভিত্তিক উৎসব, যেখানে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার প্রথা পালন করা হয়।
শব্দার্থ ও মানে:
“ভূতচতুর্দশী” শব্দের অর্থ — “ভূতদের (অর্থাৎ আত্মা বা অশুভ শক্তি) চতুর্দশী তিথি”। এই দিনে বিশ্বাস করা হয়, অশরীরী আত্মারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে, তাই ঘরবাড়ি ও পরিবারকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ আচার পালিত হয়।
প্রধান আচার:
ভূতচতুর্দশীর রাতে চোদ্দটি প্রদীপ (১৪টি দীপ) জ্বালানো হয়।
এই প্রদীপগুলো জ্বালানো হয় বাড়ির—
• দরজায়,
• জানালায়,
• ছাদে,
• উঠানে,
• তুলসিতলায়,
• রান্নাঘরে,
• এবং পরিবারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।
এই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় চোদ্দ প্রজন্মের পূর্বপুরুষদের। একই সঙ্গে এটি অশুভ শক্তিকে দূর করে ঘরে আলোর ও শুভ শক্তির আগমন ঘটানোর প্রতীক।
খাদ্যপ্রথা:
এই দিনে অনেক পরিবারে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি আছে — ১৪ প্রকার শাক যেমন— লাউশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, মিষ্টিশাক, শুষনি, মেথি, বেতো, হালুদশাক, পলংশাক, নটে, মিষ্টি আলুর পাতা, ধনেপাতা ইত্যাদি।
বিশ্বাস করা হয়, এই ১৪ শাক খেলে রোগব্যাধি ও অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা মেলে।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য:
ভূতচতুর্দশী মূলত আলো ও অন্ধকারের সীমানায় দাঁড়ানো এক প্রতীকী রাত্রি। অশুভ শক্তির ভয় দূর করে শুভ শক্তির আগমন ঘটানোই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। এটি কালীপূজার প্রস্তুতির দিনও বটে।
ভূতচতুর্দশী মানে
পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ, আলোর আহ্বান, অশুভ শক্তির বিনাশ।


