গুরুপূর্ণিমার অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চ হিসেবেই ব্যবহার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত গুরুপূর্ণিমা মহোৎসব ও গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একযোগে বামফ্রন্ট ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে ‘জমি জেহাদ’, ‘লাভ জেহাদ’ ও জোর করে ধর্মান্তর রুখতে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।
হিরণ্ময় গোস্বামী মহারাজের দুটি গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, কমিউনিস্টরা দীর্ঘ ৩৫ বছর বিদেশি মতাদর্শের প্রভাবে বাংলা শাসন করেছে। তৃণমূলকে নিশানা করে তাঁর দাবি, গত ১৫ বছর ‘জামাতি শক্তি’ বাংলাকে অন্য পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু মানুষ সেই শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর কথায়, এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
এদিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (ইউসিসি) পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে কোনওভাবেই ‘জমি জেহাদ’, ‘লাভ জেহাদ’ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। একইসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দ, ঋষি অরবিন্দ ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করে তিনি বলেন, “গুরু শুধু ব্যক্তি নন, একটি আদর্শও হতে পারেন।”
বক্তৃতার শেষ পর্বে বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্য, “কিছুই ভুলিনি। বিচারও হবে, হিসাবও হবে।” পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিজে’ মন্তব্যেরও জবাব দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলার মানুষ শব্দদূষণের বদলে শঙ্খধ্বনি ও ধামসা-মাদলের সংস্কৃতিকেই বেছে নিয়েছে।


