বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নতুন সমীকরণের পথে হাঁটতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি তৃণমূল এবং কংগ্রেসের সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণ নিয়েও দুই দলের শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
তবে এই সম্ভাবনাই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে কংগ্রেসের অন্দরে। প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব এবং কর্মীরা আদৌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেত্রী হিসেবে মেনে নেবেন কি না।
প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে কোনও ধরনের রাজনৈতিক একীভবন দলের আদর্শগত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাঁদের যুক্তি, গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগের দায় কংগ্রেসের কাঁধে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। এই শিবিরে রয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা।
আবদুল মান্নান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমার কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর আস্থা রয়েছে। নো অ্যালায়েন্স উইথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” অন্যদিকে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কটাক্ষ, “যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় কংগ্রেস ভেঙে দল গড়েছিলেন, তাঁকেই এখন গান্ধী পরিবারের কাছে যেতে হচ্ছে। পাপের ফল ভোগ করতেই হবে।”
তবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নমনীয়। তিনি জানিয়েছেন, কংগ্রেসে যোগ দিতে চাইলে প্রথমেই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিতে হবে। তাঁর কথায়, “রাহুল গান্ধীকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে যাঁরা কংগ্রেসে আসতে চান, তাঁদের স্বাগত।” যদিও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিষয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। শুভঙ্করের মন্তব্য, “নিজেকে বাঁচাতে কেউ যদি কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চান, তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা নয়।”
এদিকে দিল্লিতে পরপর দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। প্রথমে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরদিন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, সম্ভাব্য ভাঙন এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। যদিও এ বিষয়ে কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি। কিন্তু দিল্লির এই ধারাবাহিক বৈঠক ঘিরে জল্পনা এখন তুঙ্গে—তৃণমূল কি সত্যিই কংগ্রেসের ছাতার তলায় যেতে চলেছে, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল? উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেই।


