জেলবন্দি স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে এবার সামনে এল এমন এক অভিযোগ, যা শুনে অনেকেই ‘জেমস বন্ড’-এর গল্পের সঙ্গে তুলনা টানছেন। আদালতে তদন্তকারীদের দাবি, স্বরূপের ব্যবহৃত একটি চশমায় বিশেষ ধরনের ক্যামেরা বসানো ছিল। সেই ক্যামেরায় কী রেকর্ড করা হত, কারা ছিলেন নজরবন্দি, আদৌ কোনও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না— তা নিয়েই এখন তুমুল রহস্য।
একসময় টলিপাড়ার অন্দরমহলে স্বরূপ বিশ্বাসের প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। প্রযোজক, পরিচালক থেকে শিল্পীদের একাংশের দাবি, স্টুডিওপাড়ার বহু বিষয়ে তাঁর মতামতই শেষ কথা হয়ে উঠত। যদিও সেই সময় প্রকাশ্যে অভিযোগ করার সাহস খুব কম লোকই দেখিয়েছিলেন।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একের পর এক অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা প্রভাবের জাল ভাঙতেই উঠে আসছে বহু অজানা তথ্য।
গত ৪ জুন তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন স্বরূপ বিশ্বাস। পরে তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগও যোগ হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানায়, স্বরূপের একটি চশমায় ক্যামেরা লাগানো ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সেই ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই ক্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ফুটেজ সংরক্ষিত থাকতে পারে।
তবে ক্যামেরাটি থেকে এখনও পর্যন্ত কী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। আদালতে ওঠা এই দাবির সত্যতা যাচাই করতেই এখন জোরকদমে তদন্ত চলছে। আর সেই কারণেই স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।


