৪.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে সরকারি কর্মীদের DA বৃদ্ধি, মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা’, বেকার ভাতা, আয়ুষ্মান ভারত, নতুন জেলা, বিমানবন্দর থেকে গভীর সমুদ্রবন্দর—উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একগুচ্ছ ঘোষণা।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই একের পর এক বড় ঘোষণার ঝড়। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই তিনি বলেন, এই সরকার শুধু রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক নয়, দীর্ঘদিনের অবক্ষয়ের পর নতুন বাংলা গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই পথচলা শুরু করেছে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য। বর্তমানে ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার (DA) সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ যোগ করে মোট DA ৩৮ শতাংশ করার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে ১ লক্ষ সরকারি শূন্যপদে নিয়োগের কথা জানিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০ হাজার পুলিশ, ৫০ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী এবং ১ হাজার ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলে নিয়োগ হবে। চাকরির বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড়ও আগামী দু’বছরের জন্য বহাল থাকবে।
মহিলাদের জন্যও একাধিক বড় প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের আওতায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া ১ জুন থেকেই সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চালু হবে ‘পিংক কার্ড’। প্রতিটি মহকুমায় মহিলা থানা, দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড এবং রাজ্য রিজার্ভ পুলিশে বিশেষ মহিলা ব্যাটেলিয়ন গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।
যুব সমাজের জন্যও রয়েছে বড় ঘোষণা। অক্টোবর ২০২৬ থেকে ‘ভরসা’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্নাতকদের মাসে ৩ হাজার এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের ২ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি UPSC-র আদলে নতুন নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার পাশাপাশি নতুন মেডিক্যাল কলেজ, উত্তরবঙ্গে AIIMS-এর প্রস্তাব, একাধিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দও ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পূর্ব মেদিনীপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর, কলকাতার কাছে দ্বিতীয় বিমানবন্দর, ডানকুনিকে মাল্টি-লজিস্টিক হাব, নতুন এলিভেটেড করিডর, সেতু, বিদ্যুৎ ও সৌরশক্তি প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে PM SHREE প্রকল্প, নতুন মহিলা কলেজ, আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়, অটল ল্যাব, NEET ও সিভিল সার্ভিসের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ স্কলারশিপের ঘোষণাও করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক, গিগ ওয়ার্কার, আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক, বৃদ্ধ-বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্যও বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা ও ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রথম বাজেটেই কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, মহিলা কল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি এবং পরিকাঠামো—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড় ঘোষণা করে আগামী দিনের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরল বিজেপি সরকার।


