নারীর বয়স যেন সমাজের কাছে চিরকালই এক অঘোষিত বিচার্যের বিষয়। বয়স বাড়লেই পোশাক, সাজ, জীবনযাপন—সবকিছু নিয়েই শুরু হয় উপদেশ আর কটাক্ষ। সেই মানসিকতার বিরুদ্ধেই এবার সরব হলেন টলিউড অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে বয়স নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন অভিনেত্রী। উজ্জ্বল লাল শাড়ি ও মানানসই গয়নায় নিজের ছবি শেয়ার করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—বয়স বাড়া লজ্জার নয়, বরং জীবনের পরিণত অধ্যায়কে গর্বের সঙ্গে বাঁচার নামই আত্মবিশ্বাস।
পোস্টে অপরাজিতা লেখেন, “চল্লিশ ছুঁলেই সবাই বলে, উফ! বুড়ি হয়ে গেলে! আমি বলি, বয়সটা কি ফ্রিজে রেখে দেব নাকি?” তাঁর প্রশ্ন, বয়স বাড়লেই কি সংসারের দায়িত্ব কমে যায়? সন্তানের চিন্তা ফুরোয়? নাকি জীবনের লড়াই থেমে যায়? বরং দায়িত্ব যেমন থাকে, তেমনই বেড়ে যায় সমাজের অযাচিত উপদেশ।
অভিনেত্রীর কথায়, “এত লাল শাড়ি কেন? এত সাজো কেন? এই বয়সে নাচ? এই বয়সে প্রেমের গান? বয়স কি বিদ্যুতের বিল, যে নির্দিষ্ট দিনে কেটে যাবে রং?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে বয়সভিত্তিক সামাজিক ‘নীতিপুলিশি’র তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
বয়সের সঙ্গে ইএমআই ও সংসারের দায় টেনে অপরাজিতা আরও লেখেন, “বয়স বাড়লে কি ইএমআই কমে? সকালের রান্না নিজে হয়? কাপড়গুলো নিজেই কাচে? আমি তো সেই মানুষই, শুধু অভিজ্ঞতা একটু বেশি, হাসিটা একটু গভীর, কান্নাটা একটু চুপচাপ, আর নিজেকে ভালোবাসাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি।”
নিজের জীবনযাত্রার রূপক টেনে তিনি লেখেন, “কুড়িতে ছিলাম কুঁড়ি, তিরিশে হয়েছি নদী, চল্লিশে এসে বুঝেছি আমি আসলে সমুদ্র। আমার ঢেউ আছে, আমার গভীরতা আছে, আমার ঝড় আছে, আর আছে নিজের মতো বাঁচার সাহস।”
পোস্টের শেষে সমাজের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বয়স বাড়া অপরাধ নয়। অপরাধ হল একজন নারীর বয়স দেখে তার রঙিন মনটাকে অবসর দিয়ে দেওয়া। আমি বুড়ি নই, আমি পরিণত। আমি শেষ নই, আমি পূর্ণ।” অভিনেত্রীর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে বহু মানুষের সমর্থন কুড়িয়েছে।


