কলকাতা ইসকনের সহ সভাপতি পদ থেকে অপসারিত হলেন রাধারমণ দাস। শনিবার রাতে ইসকন কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এরপরই এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দীর্ঘ পোস্ট করে পদচ্যুতির সম্ভাব্য কারণগুলি তুলে ধরেন তিনি। যদিও ইসকনের তরফে এখনও পর্যন্ত অপসারণের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
সংবাদ প্রতিদিনকে রাধারমণ দাস বলেন, ২০২৩ সালে গোরক্ষা সংক্রান্ত ইস্যুতে বিজেপি সাংসদ মানেকা গান্ধী ইসকনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন এবং সংগঠনটিকে ‘দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারক’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। সেই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে ভক্তদের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে মানেকা গান্ধীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই পদক্ষেপই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
রাধারমণ দাস আরও জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে সরব ছিলেন। তাঁর মতে, এই অবস্থানও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
এক্সে করা পোস্টে তিনি আরও কয়েকটি সম্ভাব্য কারণের উল্লেখ করেছেন। কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ, কট্টরপন্থী সনাতনী গোষ্ঠী নিয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্য এবং গত ২৯ মে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার—এসবই পদচ্যুতির নেপথ্যে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই সাক্ষাৎকারকে ইসকন-বিরোধী আচরণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
তবে ইসকন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে রাধারমণ দাস বলেছেন, তিনি আর ইসকনের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেবেন না। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, পদে না থাকলেও ইসকনের উন্নতি ও বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করবেন।


