বাংলাদেশে পালাবদলের পর এমনিতেই জটিল হয়েছে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক। তার উপর গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভারচুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন। স্বদেশে ফেরার ব্যাপারে তাঁর কড়া বার্তার পর নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকারের অন্দরে। আর তারই আঁচ এবার পড়ল নয়াদিল্লির আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসছে ব্রিকস সম্মেলন। সেখানে আমন্ত্রিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের পর আচমকাই জোরাল হয়েছে অন্য জল্পনা—ভারত সফর এড়িয়ে যেতে পারেন তারেক!
যদিও সেই সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দিচ্ছে না কূটনৈতিক মহল। বরং ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্যে মিলেছে অন্য ইঙ্গিত। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই সম্মান করি। আমার মতে, যদি দুই রাষ্ট্রনেতা নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমান আলোচনা করেন, তবে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের পথ খোলে। এখানে কোনও নেতিবাচক দিক নেই। সবটাই ইতিবাচক।’’
অর্থাৎ, তারেকের ভারত সফর নিয়ে জল্পনার মাঝেও আলোচনার দরজা খোলা রাখছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ব্রিকসের মঞ্চে মোদি-তারেক মুখোমুখি হলে দুই দেশের সম্পর্কের একাধিক জট কাটতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে এখন বড় প্রশ্ন—হাসিনার ভারচুয়াল বার্তার জেরে কি সত্যিই নয়াদিল্লি সফর বাতিল করবেন তারেক? নাকি যাবেন তিনি, আর ব্রিকসের ফাঁকেই মোদির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে খুলবে নতুন সমীকরণের দরজা?


