নেপালের মহাপ্রলয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি, মৃত ৭৬৮! নিখোঁজ ৩ হাজারেরও বেশি, থমকে যাচ্ছে উদ্ধারকাজ

Spread the love

২০০৯ সালের হলিউডের সাইফাই ছবি ‘২০১২’-এর ভয়ংকর দৃশ্য যেন বাস্তবে ফিরে এসেছে নেপালে। বুধবার সকালে হিমবাহ ভেঙে সুন্দরী নদীতে নেমে আসে জল, কাদা আর ধ্বংসাবশেষের স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। শহর থেকে গ্রাম—ভেসে যায় একের পর এক জনপদ। প্রাণ হারান অসংখ্য মানুষ।

রবিবার পর্যন্ত নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৬৮। এখনও নিখোঁজ ৩০৪৮ জন। প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।

নেপাল প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর দেশে ২৫০২ জনের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭৫২। অন্যদিকে, চিনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতির সম্পূর্ণ ছবি সামনে আসছে না। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির দাবি, তিব্বতে মৃত ১৬ জন এবং নিখোঁজ ৫৬৪। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি।

এর মধ্যেই ত্রিশুল এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে প্রায় ১০০ জন কর্মী আটকে পড়ার খবর সামনে এসেছে। নেপালের মন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, বড় পাইপের মাধ্যমে সুড়ঙ্গে পৌঁছে শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে নেপালি সেনা। তবে রাতভর বৃষ্টি এবং নদীর জল বাড়তে থাকায় উদ্ধার অভিযান বারবার বাধার মুখে পড়ছে। সব মিলিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মীর এখনও সন্ধান নেই বলে জানা গিয়েছে।

এই বিপর্যয়ের পর নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতও। দিল্লির পাঠানো ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। চিনও পাঠিয়েছে ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল।

তবে নতুন করে আশঙ্কা বাড়াচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকায় তৈরি হওয়া একটি নতুন হ্রদ। আগের একটি হ্রদের জল নিষ্কাশন করা সম্ভব হলেও, তার প্রায় ২.৮ কিলোমিটার দূরে ভূমিধসের জেরে নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সেই হ্রদের জল বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাওয়ায় আরও বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধারকাজ চালানোও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *