মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর পর এবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের জন্য খুলছে অভিযোগ জানানোর সরাসরি দরজা। সপ্তাহে দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি দপ্তরে বসেই মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে আধিকারিকদের। শুধু শুনলেই হবে না, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে তার হিসাবও রাখতে হবে।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে গিয়ে সরাসরি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এর জন্য কোনও আগাম অনুমতি বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হবে না।
এই ব্যবস্থার আওতায় শুধু কলকাতা নয়, জেলা ও ব্লক স্তরের আধিকারিকদেরও আনা হয়েছে। জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও, পুরসভার কমিশনার, পুলিশ আধিকারিক-সহ বিভিন্ন দপ্তরের ফিল্ড-লেভেল অফিসারদের নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের কথা শোনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সময় যাতে আধিকারিকরা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন, সেজন্য সম্ভব হলে বৈঠক, সরকারি সফর কিংবা অন্য কর্মসূচি না রাখার কথাও বলা হয়েছে।
মানুষ যাতে সহজেই আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেজন্য দপ্তরে দৃশ্যমান জায়গায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ইমেল ও মোবাইল নম্বর প্রকাশ করতে হবে। একই তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটেও দিতে হবে। কোন দপ্তরে কোন দিন এবং কখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে আধিকারিকরা দেখা করবেন, তা নোটিসের মাধ্যমে আগাম জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
তবে অভিযোগ শুনে দায়িত্ব শেষ নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হল, তারও রেকর্ড রাখতে হবে। এজন্য ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ পোর্টালে অভিযোগ এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ নথিভুক্ত করার ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অভিযোগের অগ্রগতি ও নিষ্পত্তি পর্যালোচনা করবেন।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে অনলাইন পরিষেবার পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও তৈরি হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থায় এখনও স্বচ্ছন্দ নন এমন মানুষের কাছে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
নির্দিষ্ট দিনে আধিকারিকরা সত্যিই সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, অভিযোগের নিষ্পত্তি কতটা এগিয়েছে—সেই বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি চালাবে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এর ধাঁচে এবার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা এবং দ্রুত সমাধানের প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।


