কার্নিভালের নামে পুজোর পরে চাপিয়ে দেওয়া যে ব্যবস্থা ছিল, এবার তা হচ্ছে না বলে জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
পর্যটন ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বড় কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্গাপুজোর সূচনা হবে। থাকবে ড্রোন শো, আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন এবং শহরজুড়ে রোড শো। দীঘাতেও পর্যটন দপ্তরের বিশেষ অনুষ্ঠান হবে। রাজ্যের ছয়টি শহরে দুদিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কলকাতার চারটি ঘাটে সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।
শুভেন্দুর দাবি, দুর্গাপুজোর জন্য বৃহৎ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। বিসর্জনের ক্ষেত্রেও আগের ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আয়োজন করা হবে। তাঁর কথায়, “আস্থা যদি আঘাত রক্ত না হয়, তা আমাদের অগ্রাধিকার।”
পঞ্জিকা মেনেই বিসর্জন করতে হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। নির্দিষ্ট তারিখ পরিবর্তন করে কোনও ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলে জানান শুভেন্দু। মাতৃপক্ষ শুরু হওয়ার আগে পুজোর উদ্বোধনের অনুমতিও দেওয়া হবে না বলে দাবি তাঁর।
এছাড়া জাতীয় সড়ক বা কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ব্লক করে পুজো করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। রেড রোড, জওহরলাল নেহরু রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, হাসপাতাল রোড, ক্যাথিড্রাল রোড, নির্মলচন্দ্র স্ট্রিট, লেনিন সরণি, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর এবং প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরেন তিনি।
পুজো ও বিসর্জনে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ থাকবে বলেও জানান শুভেন্দু। মহাষ্টমীর দিন রাজ্যে মদের দোকান বন্ধ থাকবে এবং বারগুলিতেও মদ বিক্রি করা যাবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর, লক্ষ্মীপুজোর আগের দিনের মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
পুজোর জন্য যেসব ক্লাবের অনুদানের প্রয়োজন, তাদের ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সব ক্লাবকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণাও করেন শুভেন্দু অধিকারী।


