ব্যালন ডি’অর জয়ের সংখ্যায় লিয়োনেল মেসি এগিয়ে থাকলেও, একটি মরশুমের সেরার লড়াইয়ে তাঁকে পিছনে ফেললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ভক্তদের ভোটে ‘ব্যালন ডি’অর অফ অল টাইম’ বা B.O.A.T. সম্মান জিতে নিলেন পর্তুগিজ তারকা। ২০০৮ সালে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে রোনাল্ডোর পারফরম্যান্সকেই এই পুরস্কারের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা বলে বেছে নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ফলে পিছনে পড়ে গেল ২০১২ সালে মেসির সেই অবিশ্বাস্য মরশুম, যখন এক ক্যালেন্ডার বছরে ৯১টি গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ব্যালন ডি’অরের ৭০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ ভোটের আয়োজন করা হয়। লক্ষ্য ছিল, পুরস্কারের ইতিহাসে কোন ফুটবলারের কোন মরশুম সবচেয়ে সেরা, তা ভক্তদের ভোটে নির্ধারণ করা। তবে এই তালিকায় জায়গা পেতে হলে কোনও ফুটবলারকে অন্তত দু’বার ব্যালন ডি’অর জিততে হয়েছে। এই সম্মান সুপার ব্যালন ডি’অরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
২০০৭-০৮ মরশুমে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে রোনাল্ডো ছিলেন দুরন্ত ছন্দে। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—দু’টি বড় শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ডের ক্লাবটি। সমস্ত প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২টি গোল করার পাশাপাশি ৮টি গোলে সতীর্থদের সাহায্য করেছিলেন তিনি। শুধু দলগত সাফল্য নয়, ব্যক্তিগত পুরস্কারেও সেই মরশুমে কার্যত সবকিছুই নিজের নামে করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।

প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের সেরা ফুটবলার, পিএফএ প্লেয়ার্স’ প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার, এফডব্লিউএ ফুটবলার অফ দ্য ইয়ার, উয়েফা ক্লাব ফুটবলার অফ দ্য ইয়ার এবং ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ারের সম্মানও পেয়েছিলেন রোনাল্ডো। সব মিলিয়ে ২০০৮ সালের মরশুম তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
সেরা ১০ মরশুমের তালিকায় মেসি ও রোনাল্ডো ছাড়া অন্য কোনও ফুটবলারের জায়গা হয়নি। রোনাল্ডোর পাঁচটি মরশুম রয়েছে এই তালিকায়—২০০৮, ২০১৭, ২০১৬, ২০১৪ ও ২০১৩। অন্যদিকে, মেসির পাঁচটি নির্বাচিত মরশুম হল ২০১২, ২০২৩, ২০১৫, ২০১১ ও ২০০৯। অর্থাৎ, দুই মহাতারকার দীর্ঘদিনের দ্বৈরথ এই তালিকাতেও সমানে সমানে। তবে ভক্তদের বিচারে শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডোই।


