ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে দুই তারকা স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কৌরকে ঘিরে চলছিল নানা আলোচনা। অধিনায়কত্বে পরিবর্তনের পর তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। এরই মধ্যে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে হরমনপ্রীতির শতরানের পর স্মৃতির একটি আচরণ নজর কাড়ল ক্রিকেটপ্রেমীদের। সতীর্থের সাফল্যে উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন স্মৃতি। মাঠের সেই মুহূর্ত ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, বরোদার বিসিএ স্টেডিয়ামে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে খেলতে নামে ভারত। শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি দলের। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি বর্মার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে দলের দায়িত্ব তুলে নেন হরমনপ্রীত। প্রতিকা রাওয়ালের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১২৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ভারতকে লড়াইয়ে ফেরান তিনি।
১০১ বলে নিজের অষ্টম একদিনের আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন হরমনপ্রীত। শতরান সম্পূর্ণ হতেই ভারতীয় ড্রেসিংরুমে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। সতীর্থদের সঙ্গে স্মৃতিও উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান তাঁকে। অধিনায়কত্বের পরিবর্তনকে ঘিরে দুই ক্রিকেটারের সম্পর্ক নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তার মধ্যে এই দৃশ্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। যদিও এই একটি মুহূর্ত দিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
এ দিন ব্যাট হাতে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন হরমনপ্রীতি। ১২১ বলে ১২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন ১৫টি চার। ৬৭ রানে থাকাকালীন একটি ক্যাচ ফস্কানোর সুবাদে জীবনও পেয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংসকে আরও বড় করেন তিনি। পরে মিশেল মাভুঙ্গার বলে লং-অফে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন হরমনপ্রীত।
এই শতরানের সঙ্গে আরও একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি গড়লেন ভারতীয় তারকা। মহিলা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক শতরানের তালিকায় প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজকে টপকে গেলেন তিনি। দেশের মাটিতে ২০২৪ সালের জুনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শতরানের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেটে তিন অঙ্কের রান করলেন হরমনপ্রীত। তবে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক ১৪টি শতরানের রেকর্ড এখনও স্মৃতি মান্ধানার দখলেই রয়েছে।
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এই সাফল্যের আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ব্যাট হাতে নজর কেড়েছিলেন হরমনপ্রীত। ২০ অক্টোবর তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৪১ বলে অপরাজিত ৯১ রান করেন তিনি। সেই ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও পাঁচটি ছয়। ভারত ৭ উইকেটে ২১৬ রান তুলে ম্যাচ জেতে ৯২ রানে। একই সঙ্গে ৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজও নিজেদের দখলে নেয় ভারত।
পরপর দুই ফরম্যাটে হরমনপ্রীতির এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্স ভারতীয় দলের কাছে নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। আর শতরানের পর স্মৃতির উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানানোর মুহূর্ত মনে করিয়ে দিল, ক্রিকেটের মাঠে সতীর্থের সাফল্য উদ্যাপনের ছবিও কখনও কখনও বড় খবর হয়ে ওঠে।


