ভোটার তালিকায় আগে নাম থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়লে, ফের নাম তুলতে কেন ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে? দিল্লির এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম ৬-কে আগে তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও কমিশনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, ফর্ম ৬ নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য, আর ফর্ম ৮ ঠিকানা পরিবর্তন-সহ সংশোধনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়লে তাঁকে নতুন ভোটার হিসেবে গণ্য করে ফর্ম ৬ জমা দিতে বলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
শুনানিতে বেঞ্চের প্রশ্ন, দিল্লিতে অদূর ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচন না থাকা সত্ত্বেও ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কেন অনড়? নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কোনও চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ না করার পরামর্শও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
যাঁরা বিভিন্ন কারণে এনুমারেশন ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করার কথাও বলেছে আদালত। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তির নাম বর্তমানে বাদ পড়ে থাকলে তাঁকে নতুন ভোটার হিসেবে বিবেচনা না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন।
মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে জানান, বহু ভোটার এনুমারেশন ফর্ম পাননি অথবা নানা কারণে তা জমা দিতে পারেননি। এমনকি দিল্লির এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়া ব্যক্তিরাও এই সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। এই প্রেক্ষিতে ভোটারদের অসুবিধা দূর করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে শুনানিতে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আগে থেকে নথিভুক্ত ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, এখন সেই প্রশ্নেই নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।


