বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস (WCL)-এ ভারত ও পাকিস্তানের বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচ বাতিল হওয়ার পরে অবশেষে মুখ খুললেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি। ভারতের হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আফ্রিদি প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ক্ষোভ—রাজনীতি যেন খেলাধুলার ওপর প্রভাব না ফেলে। আফ্রিদি বলেন, খেলাধুলা এমন এক মাধ্যম যা দুই দেশের মানুষকে একসাথে নিয়ে আসে, কিন্তু কিছু মানুষের সিদ্ধান্তে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আফ্রিদির দাবি, একজন খেলোয়াড়ের সিদ্ধান্তের জেরে পুরো ম্যাচ বাতিল হয়েছে। যদিও তিনি কারো নাম নেননি, কিন্তু তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট—ভারতীয় দলে থাকা কোনও প্রভাবশালী খেলোয়াড় হয়তো বাকিদের রাজি করিয়েছেন খেলতে না যাওয়ার জন্য। আফ্রিদি এটাও বলেন, যদি তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কারও সমস্যা থাকত, তাহলে কেউ তাঁকে আগেই জানাতে পারত। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেই সরে দাঁড়াতেন, কারণ খেলাধুলার মর্যাদা তাঁর কাছে বড়।
ভারতের তরফে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রসঙ্গ উঠেছে। নিরাপত্তার কারণেই নাকি খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে চাননি। শিখর ধাওয়ান, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, সুরেশ রায়নার মতো তারকা ক্রিকেটাররা শেষ মুহূর্তে ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায় এবং পাকিস্তান দল জয়ী ঘোষণা করা হয়।
এই ঘটনায় আফ্রিদি বলেন, খেলোয়াড়দের উচিত রাষ্ট্রদূতের মতো আচরণ করা, যাতে তারা দেশের সম্মান বহন করতে পারেন। খেলার মাধ্যমে বিভাজনের বার্তা নয়, বরং বন্ধুত্বের বার্তাই ছড়ানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আর কোনও ম্যাচ হবে না এই টুর্নামেন্টে। আফ্রিদির আক্ষেপ, খেলাধুলার মঞ্চও আজ আর রাজনীতিমুক্ত থাকছে না। তবুও তিনি আশা হারাননি—ক্রিকেট একদিন আবার দুই দেশকে একসূত্রে বাঁধবে।


