উত্তর-পূর্ব ভারতের বাকি অংশ থেকেও আগামী বছরের মধ্যেই সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFSPA) প্রত্যাহার করা হবে। বৃহস্পতিবার এমনই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, গত এক দশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সেই কারণেই ধাপে ধাপে AFSPA তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র।
দিল্লিতে কেন্দ্র, অসম এবং নাগাল্যান্ড সরকারের মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়েই এই ঘোষণা করেন শাহ। তিনি জানান, উত্তর-পূর্বের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই AFSPA প্রত্যাহার করা হয়েছে। যে কয়েকটি অঞ্চলে এখনও এই আইন কার্যকর রয়েছে, সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্যালোচনার কাজ শেষ হলেই সেখান থেকেও আইনটি তুলে নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “উত্তর-পূর্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এসেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ ও হিংসার ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। তাই আগামী বছরের মধ্যে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকেই AFSPA সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কেন্দ্র।”
উল্লেখ্য, AFSPA দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে। এই আইনের আওতায় সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্যে এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন হয়েছে। বিশেষ করে মণিপুরের মানবাধিকার কর্মী ইরম শর্মিলার অনশন আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল।
নয়ের দশক থেকে অসম, নাগাল্যান্ড-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘ডিস্টার্বড এরিয়া’ বা উপদ্রুত অঞ্চল ঘোষণা করে সেখানে AFSPA কার্যকর করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির জেরে ধাপে ধাপে সেই পরিধি কমানো হয়েছে। এবার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সময়সীমাও জানিয়ে দিল কেন্দ্র।


