রথযাত্রার সময়সূচি নিয়েই এবার ওড়িশায় তীব্র বিতর্কের মুখে ইসকন। পুরীর জগন্নাথদেবের প্রাচীন রীতি ভেঙে নির্ধারিত সময়ের বাইরে দেশ-বিদেশে রথযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কলিঙ্গ সেনা। তাদের দাবি, এতে জগন্নাথ সংস্কৃতির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
শনিবার কলিঙ্গ সেনার সভাপতি হেমন্ত রথ সরাসরি ইসকনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। তাঁর দাবি, একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও ইসকন পুরীর রথযাত্রার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলেনি। তাই এই প্রথা অবিলম্বে বন্ধ না হলে ওড়িশায় ইসকনের থাকার কোনও অধিকার নেই। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভগবান জগন্নাথের প্রধান সেবক হিসেবে বিবেচিত গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেবকেও অসম্মান করা হয়েছে।
শুধু বক্তব্যেই থেমে থাকেনি কলিঙ্গ সেনা। সংগঠনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, পুরী ও ভুবনেশ্বরে রথযাত্রার সময় ইসকনের সদস্যদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি প্রয়োজন হলে ওড়িশার ইসকনের সমস্ত মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার আন্দোলনও শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বছরে নির্দিষ্ট একটি দিনেই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ওড়িশার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের দাবি, সেই নির্ধারিত সময়ের বাইরে একই নামে রথযাত্রা আয়োজন করলে ঐতিহ্যের অবমাননা হয়।
অন্যদিকে, ইসকনের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। এটি বহু দশকের প্রচলিত প্রথা এবং সেই নিয়মই অনুসরণ করা হচ্ছে।


