মমতা শিবিরে বড় ধাক্কা, জেলা সংগঠনে ব্যাপক রদবদল ঋতব্রতদের! অনুব্রত-রবীন্দ্রনাথ-অরুণাভদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

Spread the love

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আগে ৬৫ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর এবার জেলা সংগঠনেও বড়সড় রদবদলের ঘোষণা করা হল। শনিবার জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর একসঙ্গে একাধিক জেলার সভাপতি ও রাজ্য কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তালিকায় রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অরুণাভ সেন, রঞ্জন সরকার, বিধান উপাধ্যায়-সহ একাধিক পরিচিত মুখ।

ঋতব্রত শিবিরের দাবি, জেলার অধিকাংশ হেভিওয়েট নেতা তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। ফলে সংগঠনের বড় অংশই এখন কালীঘাট শিবিরের বাইরে চলে এসেছে। দলের প্রতীক, নাম ও তহবিল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চলা টানাপোড়েনের মাঝেই এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে অনুব্রত মণ্ডল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দলকে সারাজীবন দিয়েছেন, কিন্তু জেল থেকে ফেরার পর তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর প্রশ্ন, “আমার অপরাধটা কী ছিল?” একইসঙ্গে তিনি জানান, সকলকে সঙ্গে নিয়ে বীরভূমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবেন।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী আলিপুরদুয়ার থেকে দক্ষিণ কলকাতা পর্যন্ত একাধিক জেলায় নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে। বীরভূমের দায়িত্ব পেয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল, দার্জিলিংয়ে রঞ্জন সরকার, হাওড়ায় অরুণাভ সেন রাজা, হুগলিতে সন্তোষ সিং পাপ্পু, উত্তর কলকাতায় সন্দীপন সাহা এবং দক্ষিণ কলকাতায় দেবাশীষ কুমার।

এছাড়া রাজ্য কমিটিতেও প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, স্বর্ণকমল সাহা, শক্তিপদ মণ্ডল, জ্যোৎস্না মান্ডি-সহ একাধিক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডাঃ শান্তনু সেন, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, কোহিনুর মজুমদার ও সুদীপ রাহা।

তবে কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর, বনগাঁ ও বারাকপুর-সহ কয়েকটি জেলায় এখনও সভাপতি ঘোষণা করা হয়নি। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, উপযুক্ত নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার কাজ এখনও চলছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *