তৃণমূলে বড় ধাক্কা, সব সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

Spread the love

জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার তিন দিনের মাথায় ফের বড় সিদ্ধান্ত নিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এ বার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। সেই চিঠিতে দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড এবং দলের অভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সাংসদ।

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে লেখা চিঠিতে কাকলি জানান, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা তাঁর বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-সহ বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী কাকলি চিঠিতে আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকেও তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘটনার সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে এবং ব্যক্তিগত ভাবেও তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

এতেই থামেননি সাংসদ। নাম না করেই দলের এক সাংসদকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, একজন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন ‘অশিক্ষিত ও অভদ্র’ সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায়নি। এমনকি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকেও সহযোগিতা বা সহানুভূতি পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিতে পদে থাকার কোনও অর্থ নেই বলেই মনে করেছেন কাকলি।

চিঠির দ্বিতীয় অংশে তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আই-প্যাককেও নিশানা করেন বারাসতের সাংসদ। তাঁর দাবি, আই-প্যাককে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ উঠছে। কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব যদি দলের সংগঠনের উপর আধিপত্য বিস্তার করে, তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে নিজের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নেওয়া নয় বলেই স্পষ্ট করেছেন কাকলি। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে সাধারণ কর্মী হিসেবেই দলের হয়ে কাজ করবেন। গণতন্ত্র, দল এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *