মোদির ব্রেকফাস্টে ৪৭ সাংসদ, প্রত্যেকের হাতে ‘রিপোর্ট কার্ড’! বাংলার সাংসদরা কী চাইলেন?

Spread the love

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে দেখা করার সুযোগ। শুক্রবার সকালে সেই সুযোগ পেলেন এনডিএ-তে নতুন করে যোগ দেওয়া ৪৭ জন সাংসদ। তাঁদের মধ্যে বাংলারও একাধিক সাংসদ ছিলেন। আর সেই বৈঠকেই সামনে এল চমকপ্রদ বিষয়—প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই প্রত্যেক সাংসদের হাতে পৌঁছে গেল তাঁদের ‘রিপোর্ট কার্ড’!

শুক্রবারের ব্রেকফাস্ট বৈঠকে ৪৭ জন সাংসদের জন্য রাখা হয়েছিল আলাদা আলাদা নাম লেখা চেয়ার। প্রত্যেকটি চেয়ারে রাখা ছিল একটি করে মুখবন্ধ খাম। সেই খামের ভিতরেই ছিল সংশ্লিষ্ট সাংসদের গত তিন মাসের সোশ্যাল মিডিয়া পারফরম্যান্সের রিপোর্ট। ফেসবুক, এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে তাঁদের সক্রিয়তা, কী ধরনের পোস্ট করেছেন, কতটা নিয়মিত ছিলেন—সবকিছুরই হিসাব ছিল সেই রিপোর্টে।

যদিও রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বৈঠকে আলাদা করে কোনও আলোচনা হয়নি। বরং বেশ খোশমেজাজেই সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন মোদি। প্রত্যেকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সায়নী ঘোষ, বাপি হালদারদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।

তবে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বৈঠকে বাংলার সাংসদরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি চিঠি তুলে দেন বলে খবর। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আর্জির পাশাপাশি অমিত শাহর কাছে যে দাবিগুলি জানানো হয়েছিল, সেগুলিও মোদির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

আবু তাহের খান নিজের এলাকার রেলপথের দাবিও জানান। অন্যদিকে বাপি হালদারের দাবি, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দিতে হবে। বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ রায় আবার সাংসদ তহবিলের অর্থে কার্যকর ১৮ শতাংশ জিএসটি তুলে দেওয়ার আর্জি জানান।

সূত্রের খবর, সাংসদদের প্রত্যেকের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের প্রয়োজনীয় আশ্বাসও দেন তিনি।

এদিন সাংসদদের উদ্দেশে মোদির বার্তাও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজের নিজের এলাকায় আরও বেশি করে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি এনডিএ-র পুরনো ও নতুন শরিকদের মধ্যে কোনও বিভাজন নেই বলেও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।

২৪ বছর ধরে এনডিএ-র সঙ্গে থাকা সাংসদ যেমন গুরুত্ব পাবেন, তেমনই একদিন আগে জোটে যোগ দেওয়া সাংসদও সমান গুরুত্ব পাবেন—বৈঠকে এমনই বার্তা দিয়েছেন মোদি। অর্থাৎ, নতুনদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাঁদের কাজের হিসাবও যে নজরে রয়েছে, ব্রেকফাস্ট বৈঠকের ‘রিপোর্ট কার্ড’ পর্বে সেই বার্তাই কার্যত স্পষ্ট।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *