জয়পুরে মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকায় হাজির হয়ে নজর কাড়েন ঊর্বশী রাউতেলা। অনুষ্ঠানে তাঁর পরনে ছিল তেরঙ্গার রং থেকে অনুপ্রাণিত একটি বিশেষ কউচার গাউন। পোশাকে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অংশে ছিল অশোক চক্রের আদলে একটি অলঙ্করণ।
দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই পোশাক বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান ঊর্বশী। তাঁর কথায়, এই গাউন শুধু ফ্যাশন নয়, ভারতের প্রতি তাঁর আবেগ ও পরিচয়েরও প্রকাশ। তবে পোশাকটি প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় বিতর্ক।
অনেকের প্রশ্ন, জাতীয় পতাকার রং ও অশোক চক্রের আদলের প্রতীক ব্যবহার করে তৈরি পোশাকটি পতাকা ব্যবহারের নিয়ম লঙ্ঘন করছে কি না। বিশেষ করে গাউনের নিচের অংশে তেরঙ্গার রং এবং পোশাকের কিছুটা মেঝেতে ছড়িয়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে।
সমালোচনার জবাবে ঊর্বশী স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর গাউনটি জাতীয় পতাকার কোনও হুবহু প্রতিরূপ নয়। এটি তেরঙ্গা থেকে অনুপ্রাণিত একটি হাই-ফ্যাশন কউচার। রং, বিন্যাস, অনুপাত, উপকরণ এবং কেন্দ্রীয় প্রতীকে ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিবর্তন রাখা হয়েছে।
বেলারুশিয়ান ডিজাইনার দারিয়া চেরমাশেন্তসেভার তৈরি এই গাউনটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। ঊর্বশী জানান, তিনটি জাতীয় রংকে পোশাকে বসিয়ে দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং জাতীয় আবেগকে শিল্প ও ফ্যাশনের মাধ্যমে তুলে ধরাই ছিল মূল ভাবনা।
ঊর্বশীর কথায়, “আমি শুধু জাতীয়তার কারণে আমার দেশকে সঙ্গে রাখি না, ভারত আমার পরিচয়েরও একটি অংশ।” তাঁর দাবি, এই পোশাকের মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও গর্ব প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
তবে বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধি। Flag Code of India এবং Prevention of Insults to National Honour Act-এ জাতীয় পতাকার প্রদর্শন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম রয়েছে। জাতীয় পতাকা মাটিতে বা মেঝেতে স্পর্শ করা কিংবা কোমরের নিচে পোশাকের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, প্রকাশ্যে জাতীয় পতাকার অবমাননা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা দুটিই হতে পারে। তবে ঊর্বশীর এই নির্দিষ্ট গাউন আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের কথা সামনে আসেনি।


