গণেশ চতুর্থীর আবহে আম্বানি পরিবারের বাড়িতে বসেছিল ভক্তি, ঐতিহ্য আর শিল্পের অপূর্ব মেলবন্ধন। আর সেই বিশেষ মুহূর্তে রাধিকা আম্বানির শাস্ত্রীয় নৃত্য যেন গোটা আয়োজনের সৌন্দর্য আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। গণেশ বন্দনার মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে তাঁর ছন্দময় নৃত্য হয়ে উঠল ভক্তির এক নান্দনিক প্রকাশ।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য রাধিকার সাজেও ছিল ভারতীয় ঐতিহ্যের গভীর ছাপ। ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার বিশেষভাবে তৈরি পোশাকে দেখা গেল উজ্জ্বল জুয়েল-পিঙ্ক রঙের হ্যান্ডউভেন কাঞ্জিভরম সিল্ক। সোনালি জরির ঝলমলে বুননে তৈরি সেই শাড়ি উৎসবের আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
শাড়ির ড্রেপিংয়েও ছিল শাস্ত্রীয় নৃত্যের অনুপ্রেরণা। নাচের প্রতিটি ভঙ্গিমায় যাতে পোশাকের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, সেইভাবেই তৈরি করা হয়েছিল লেয়ার্ড সিলুয়েট। ভারী কারুকাজ করা ফিটেড ব্লাউজের সঙ্গে ছিল ফ্লেয়ার্ড ড্রেপ। কাঁধ থেকে নেমে আসা সিল্কের প্যানেল এবং সাজানো প্লিটস নৃত্যের প্রতিটি ঘূর্ণনের সঙ্গে খুলে দিচ্ছিল পোশাকের অন্য এক সৌন্দর্য।
কাঞ্জিভরমের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে অ্যান্টিক-গোল্ড মারোডি এমব্রয়ডারি ও সূক্ষ্ম জারদৌজি কাজ। ব্লাউজ, বর্ডার এবং প্লিটেড অংশজুড়ে ঘন সোনালি কাজ গোলাপি সিল্কের সঙ্গে তৈরি করেছে রাজকীয় বৈপরীত্য। তবে এত কারুকাজের মাঝেও কাঞ্জিভরমের নিজস্ব বুননই থেকেছে সাজের মূল আকর্ষণ।
রাধিকার এই লুক প্রসঙ্গে মনীশ মালহোত্রা জানিয়েছেন, ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের কবিতার সঙ্গে কাঞ্জিভরমের চিরন্তন কারুশিল্পকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই সাজের মধ্যে রয়েছে মাটি, প্রজন্মের পর প্রজন্মের কারিগরের হাতের কাজ এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্যের স্মৃতি।
পোশাকের জৌলুসকে সামনে রাখতেই রাধিকার মেকআপ ছিল বেশ নরম ও উজ্জ্বল। চোখে ছিল স্পষ্ট ডেফিনিশন, মুখে উষ্ণ টোনের মেকআপ, কপালে ছোট্ট লাল টিপ এবং ঠোঁটে ছিল স্বাভাবিক রঙের ছোঁয়া। পরিপাটি করে বাঁধা চুলে গুঁজে দেওয়া হয়েছিল গোলাপি ফুল। সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী গয়না তাঁর সাজে যোগ করেছিল আরও এক ধাপ আভিজাত্য।
সব মিলিয়ে রাধিকার এই উপস্থিতি শুধু একটি জমকালো উৎসবের সাজ হয়ে থাকেনি। কাঞ্জিভরমের হাতবোনা ঐতিহ্য, সোনালি কারুকাজ, মন্দির-অনুপ্রাণিত গয়না এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যের অভিব্যক্তি—সবকিছু মিলে তা হয়ে উঠেছিল গণেশ বন্দনায় ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির এক মনোমুগ্ধকর উদযাপন।


