বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ঘিরে রাজ্য জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনকে শুধু সরকার গঠনের লড়াই হিসেবেই নয়, বরং রাজ্যের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দ্রাবিড় রাজনৈতিক মডেলের শক্তি ও স্থায়িত্বের পরীক্ষাও হিসেবে দেখা হচ্ছে। শাসক ডিএমকে, বিরোধী এআইএডিএমকে, বিজেপি এবং অভিনেতা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক দল—সব মিলিয়ে এই নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহুমুখী রাজনৈতিক সমীকরণ।
রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন তার শক্ত ঘাঁটি কোলাথুর কেন্দ্র থেকেই আবারও নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। টানা জয় ধরে রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে চেপক–তিরুভাল্লিকেনি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উদয়নিধি স্টালিন। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পাওয়ার পর এবারও তার জয় ধরে রাখার লড়াই রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক অভিষেককে। তিনি তিরুচিরাপল্লি ইস্ট এবং পেরাম্বুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার দল রাজ্যের সব ২৩৪টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে, ফলে তার নির্বাচনী লড়াই ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এডাপ্পাড়ি কে পালানিস্বামী নিজের শক্ত ঘাঁটি এডাপ্পাড়ি কেন্দ্র থেকেই লড়ছেন। তিনি টানা চতুর্থবার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং এআইএডিএমকের প্রধান মুখ হিসেবেই এই নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে একসময়ের এআইএডিএমকে নেতা ও পন্নিরসেলভম এবার ডিএমকের টিকিটে নিজের পুরনো ঘাঁটি বোদিনায়ক্কানুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার দলবদলের কারণে এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
মাইলাপোর কেন্দ্র থেকেও নজরকাড়া লড়াই হতে চলেছে, কারণ সেখানে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ তামিলিসাই সৌন্দররাজন প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি সাত্তুর কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাইনর নাগেন্দ্রন, যা এই নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর এবারের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। এখন নজর ভোটের ফলাফলের দিকে, যা পরিষ্কার করবে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির দিক কোন পথে এগোবে।


