ভেনেজুয়েলার উপকূল ঘেঁষা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নাটকীয় অভিযানে একটি রুশ পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের দখল নিল মার্কিন ফৌজ। সপ্তাহের পর সপ্তাহ নজরদারি ও তাড়া করার পর অবশেষে ওই তেলবাহী জাহাজটি আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল বাণিজ্যে যুক্ত ছিল ওই জাহাজটি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর থেকেই জাহাজটির গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছিল মার্কিন কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী। শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছতেই অভিযান চালিয়ে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় মার্কিন ফৌজ।
ঘটনার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন করে এই দখলদারি করা হয়েছে এবং একে কার্যত ‘সমুদ্র ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে জাহাজে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। ভেনেজুয়েলাও এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি জাহাজ আটকানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভেনেজুয়েলার তেল, রাশিয়ার কৌশলগত সমর্থন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা—এই তিনের সংঘাতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার মেঘ জমছে। আন্তর্জাতিক তেল বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার উপকূলে রুশ তেলবাহী জাহাজ দখলের ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল, জ্বালানি সম্পদ ও ভূ-রাজনীতির সংঘাতে বিশ্ব কতটা অস্থির হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।


