ভাইরাল ভিডিওর মাশুল! চাকরি হারালেন যুবতী, সামাজিক চাপে বিপর্যস্ত পরিবার

Spread the love

কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ২১ বছরের এক যুবতী। অভিযোগ, একটি বাইক রাইড বুকিং নিয়ে বচসার সময় রেকর্ড করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চাকরি হারাতে হয়েছে রিয়া বসুকে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার সামাজিক ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন।

রিয়া বসু নিউ টাউন এলাকার একটি প্রমোটিং সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে প্রতিদিন বাইক ট্যাক্সিতে করে অফিসে যেতেন। গত ১৪ জুন সকালে অফিস যাওয়ার জন্য তিনি দুটি পৃথক অ্যাপ থেকে বাইক বুক করেন। প্রথম রাইডার আগে সাড়া দেওয়ায় তিনি অন্য বুকিংটি বাতিল করে দেন। কিন্তু অভিযোগ, বাতিল হওয়া বুকিংয়ের রাইডার হরিশ মণ্ডল ওরফে রাজকুমার অ্যাপে দেওয়া ঠিকানায় পৌঁছে যান। এরপর দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়।

রিয়ার দাবি, ওই রাইডার দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে উত্যক্ত করছিলেন। একসময় উত্তেজিত হয়ে তিনি কুরুচিকর ভাষায় গালাগালি করেন। তবে তিনি জানতেন না যে তাঁদের কথোপকথন মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছে। পরে সেই ভিডিওর একটি অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে যুবতীর গালাগালির দৃশ্য দেখা গেলেও, তার আগে কী ঘটেছিল তা দেখা যায় না বলে দাবি রিয়ার।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। শুধু সংশ্লিষ্ট রাইডার নয়, একাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরও ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করেন। এর ফলে রিয়াকে তীব্র কটাক্ষ ও ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয়।

ঘটনার পর রাইডার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে বিষয়টি মিটে যায় বলে জানা যায়। তবে রিয়ার অভিযোগ, সেই দিন সন্ধ্যায় কয়েকজনকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান ওই রাইডার। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই রিয়া যে সংস্থায় কাজ করতেন, ‘NOVESTA GROUP’, সেখান থেকে তাঁকে ই-মেলের মাধ্যমে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কেষ্টপুরে বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি ছোট ভাড়া বাড়িতে থাকা রিয়ার পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাঁর বাবাও সামাজিক চাপে নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না।

হরিশ মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঘটনাটা মিটে গেছে। আমি আর এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি আমার কাজে যোগ দিয়েছি।”

মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূর বলেন, “কেবল একটি ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে কারও চাকরি কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা প্রয়োজন।”

এদিকে রিয়া আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার প্রচারের ফলে তাঁদের পরিবার কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়েছে। ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব ও ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *