উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় এক মহিলা সিভিক ভলেন্টিয়ারকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে একই থানায় কর্মরত সিভিক ভলেন্টিয়ার অমিত ভদ্রকে। অভিযোগের ভিত্তিতে হাবড়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে বারাসাত আদালতে পেশ করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী মহিলা বিবাহিত। তাঁর দাবি, প্রায় দেড় বছর আগে রাতে ডিউটির সময় পোশাক পরিবর্তনের মুহূর্তে অভিযুক্ত গোপনে মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করে। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সামাজিক লজ্জা এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি এতদিন বিষয়টি স্বামী বা পরিবারের কাউকে জানাতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
নির্যাতিতার অভিযোগ, প্রতিবারই প্রতিবাদ করলে বা সম্পর্কে রাজি না হলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত। দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকার পর শেষ পর্যন্ত গত ১৪ জুলাই তিনি হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগকারীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অমিত ভদ্রকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে বারাসাত আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত এখনও চলছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত অমিত ভদ্র এলাকার এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য উত্তম বালার আত্মীয়। এছাড়া তিনি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ মহলের পরিচিত বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
অভিযোগকারী মহিলা ও তাঁর পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।


