যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসিকে ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ে এবার সরব হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে ‘বাঙালির আন্তর্জাতিক অপমান’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যারা মুখে মুখে বাঙালি অস্মিতা ও সংস্কৃতির কথা বলেন, তারাই রাজনৈতিক স্বার্থে এমন ঘটনার মাধ্যমে বাঙালিকে বিশ্বদরবারে লজ্জায় ফেলেছেন।
দিলীপ ঘোষের দাবি, কলকাতায় এর আগেও পেলে, মারাদোনা-সহ একাধিক ফুটবল কিংবদন্তি এসেছেন, এমনকি মেসিও আগে শহরে পা রেখেছেন। কিন্তু কখনও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। খেলাধুলা নিয়ে বাঙালির আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করার প্রবণতাই এই বিশৃঙ্খলার মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও সাধারণ দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। অথচ তৃণমূলের নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই বৈষম্যের কারণেই দর্শকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়ে বলে মত দিলীপ ঘোষের। তিনি স্মরণ করিয়েছেন, এর আগেও ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ম্যাচে দর্শকদের লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে।
গুজরাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে লক্ষাধিক দর্শক স্টেডিয়ামে গেলেও এমন বিশৃঙ্খলা দেখা যায় না। সেখান থেকে শেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও আঙুল তুলে দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, আইপিএলে কেকেআর জয়ের পরও রাজনৈতিক লাভ তোলার চেষ্টা হয়েছে। নাচ-গান ও উদযাপনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা হয়েছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
সবশেষে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, এই ধরনের ‘ছোট মন’ নিয়ে বড় আয়োজন সফল হয় না। এর ফলে কলকাতা ও বাংলার বদনাম হয়। যুবভারতীর ঘটনার জন্য দায়ীদের উদ্দেশে তিনি ধিক্কার জানান।


