গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কে তৈরি হওয়া দীর্ঘ টানাপোড়েনের আবহেই ফের মুখোমুখি হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতে আয়োজিত BRICS সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার এই সম্ভাব্য বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে পৌঁছেছিল। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC-এ ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে উত্তেজনা বজায় ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। সীমান্তে টহল দেওয়ার ব্যবস্থায় পরিবর্তন, উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ এবং ধীরে ধীরে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো পদক্ষেপে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও কূটনৈতিক মহলের মতে, বহু বছরের অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে মোদী-শি বৈঠক হলে নজর থাকবে সীমান্ত-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথের দিকে। শুধু ভারত-চিন সম্পর্ক নয়, এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে থাকবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলও।
কারণ, একদিকে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা, অন্যদিকে আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব—দুই দিক সামলে এগোতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে। ফলে BRICS-এর মঞ্চে মোদী-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, ভারতের বৃহত্তর বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


