সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনায় বড় সমর্থন জানালেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই উদ্যোগকে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।
চিঠিতে প্রতিভা পাটিল বলেন, দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে প্রকৃত নারী ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। তাঁর মতে, নারী শক্তি বন্দন আইন কার্যকর হলে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং তা দেশের নীতি নির্ধারণে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেবে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এই সাংবিধানিক সংশোধন শুধুমাত্র একটি আইনি বিধান নয়, বরং এটি লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী বার্তা। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, বহু সামাজিক ও কাঠামোগত বাধা অতিক্রম করেও নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।
এই আইন সেই সম্ভাবনাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এবং দেশের সর্বোচ্চ স্তরের শাসনব্যবস্থায় নারীদের নেতৃত্বের পথ আরও সুগম করে। তাঁর মতে, সংসদ ও বিধানসভায় নারীর উপস্থিতি বাড়লে আলোচনায় বৈচিত্র্য আসবে এবং নীতিনির্ধারণে আরও মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিভা পাটিল আরও বলেন, এই উদ্যোগ বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক সমাজের নারীদের নেতৃত্বে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করবে এবং জাতি গঠনের কাজে তাদের সক্রিয় ভূমিকা বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বমঞ্চে লিঙ্গ ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকে আরও শক্তভাবে তুলে ধরবে।
উল্লেখ্য, এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যেও আলোচনা চলছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে নারী সংরক্ষণের নামে অন্যায্য সীমানা পুনর্নির্ধারণের আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। যদিও প্রতিভা পাটিল তাঁর চিঠিতে এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এই ঐতিহাসিক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দ ও অংশীদারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।


