বারাসতে ভরাডুবির দায় নিয়ে জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি, আইপ্যাককে নিশানা

Spread the love

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের খারাপ ফলের পর বড়সড় ধাক্কা শাসকদলের অন্দরে। বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি-কে পাঠানো ইস্তফাপত্রে তিনি বারাসতে দলের পরাজয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে নাম না করে দলের ভোটকুশলী সংস্থা Indian Political Action Committee বা আইপ্যাকের ভূমিকাতেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ইস্তফাপত্রের শুরুতেই কাকলি সাম্প্রতিক সময়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। পরে তিনি লেখেন, পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে সংগঠন চালালে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হতে পারে। “ভুঁইফোড় সংস্থার দ্বারা কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না,”— এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি অভিযোগ করেন, আইপ্যাকের তরুণ কর্মীরা দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি এখানে ১৭ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি। মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা অফিস খোলা থেকেছে। বহু কাজ করেছি। আশা করেছিলাম মানুষ পাশে থাকবে। কিন্তু ফলাফলে বোঝা গেল মানুষ মেনে নেয়নি।”

একইসঙ্গে দলের অন্দরে “দুবৃত্তায়ন”-এর অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “তৃণমূলের ৮০-তে নেমে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারছি না।”

উল্লেখ্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদার দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আন্দোলনের সঙ্গী হিসেবে তিনি বরাবরই সক্রিয় ছিলেন। তিনবারের সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর সেই পদে পরিবর্তন আনা হয় এবং দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-কে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, দলের ভিতরে সমস্যা এতটাই প্রকট হলে ভোটের আগেই কেন তা নিয়ে সরব হননি কাকলি? যদিও অন্য অংশের মতে, নির্বাচনী ফলের ধাক্কায় এবার তৃণমূলের অন্দরের চাপা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *